মুক্ত শিক্ষার আনন্দ
শান্তিনিকেতন। নামটি শুনলেই এক শান্ত-নির্জন অশ্বত্থ গাছ,ছাতিম সহ নানা গাছ-গাছালির ছায়ার কথা মনে আসবে। আর পাঠভবনের পড়ুয়ারা গোল হয়ে বসে রয়েছে এই ছবিটা চোখে ভাসবে। রোদ্দুর ছায়ার মিলনে ফাঁক-ফোঁকর গলে আলোছায়ার নকশা দেখা যাবে। শিক্ষা অঙ্গনের আড়ালে পাখি-পক্ষির কিচিরমিচির শব্দ। ভেসে আসা বাউলের সুরও শুনতে পাওয়া যাবে। প্রকৃতির মাঝে পাঠ নেওয়া। এক উন্মুক্ত পরিবেশ। সেই পড়াশোনার মধ্যে প্রকৃত শিক্ষার আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে। আমরা সবাই জানি, পাঠভবন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর বিশ্বাস ছিল- চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি শিক্ষা প্রকৃত জ্ঞানার্জন নয়। শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে থেকে প্রকৃতির কাছ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করুক । প্রকৃতি মানেই -খোলা হাওয়া, খোলা আকাশ,গাছের ছায়া, পাখির কলরব,নীরবতা,শান্তির জগৎ। শিক্ষার আনন্দ বইয়ের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ থাক তা তিনি চাননি। প্রকৃতির মাঝে হোক বাস্তব
শিক্ষা-অভিজ্ঞতা।
আমরা বই থেকে প্রতিদিন শিখি। কবিগুরুর ভাষায়,প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। যেমন,গাছ আমাদের ছায়া দান করছে কোনও স্বার্থ না রেখেই। ফুল দেয় ফল দেয়। এ থেকে আমরা ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা পেয়ে থাকি। প্রকৃতির মাঝে শিক্ষাগ্রহণের এক অনন্য আনন্দ-অনুভূতি থাকে।সেটা উপলব্ধি করতে হবে। বইয়ের পাতা আর প্রকৃতির পাঠ একসঙ্গে মিলে-মিশে প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে। শিক্ষার্থীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে যেতে পারে। লক্ষ্য করে দেখবেন,কবিগুরুর ভাবনা-চিন্তা শুধু বইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়,তা বাস্তব জীবনের সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রকৃতির রূপ-রসে মুক্ত শিক্ষার আনন্দ সারা জীবন শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে যায়।

